Slide A

কী এবং কেন?

আমার ছোট ভাইরা আমাকে ভালোবাসা দিয়ে চমকে দিতে ভালোবাসে। এর মধ্যেও নাজির, সাংবাদিক এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ নাজির হোসেন, যেটা করল সেটা দেখে আরেকটু হলে চেয়ার থেকে উল্টে যেতে পারতাম। সামলালাম।
একদিন সন্ধ্যায় অফিসে এসে বলল, ‘আপনার কম্পিউটারটায় মোস্তফামামুনডটকম’ একটু টাইপ করেন তো। করলাম। দেখি, আমার নামে জলজ্যান্ত ওয়েবসাইট। ওয়েব জগতের কর্মকান্ড খুব বুঝি না বলে একটা সবিনয় দূরত্ব বজায় রাখি। ওয়েবসাইটের লোভ কেউ কেউ দেখালেও খুব আগ্রহ হইনি। নাজির তাই বলাবলিতে যায়নি। সোজা করে ফেলেছে।
তাও বছর দুয়েক আগের কথা। দুই বছর যে মাঝখানে গড়িয়ে গেল এর পেছনে দুটো কারণ। প্রথমটাতো বললামই, আমার অনাগ্রহ। দ্বিতীয় কারণ বোধহয় বহুমুখীতা। নানা কিছু নিয়ে মেতে থাকি বলে অনেক ক্ষেত্রে আসল কাজ হারিয়ে যায় নকলের ভীড়ে। এটাকে এখন আসল কাজ মনে করছি সময়ের বাস্তবতায়। কয়েক মাস আগে পরিচিত একজনের সঙ্গে দেখায় আমার পুরনো একটা লেখার কথা উঠল। তিনি জানতে চাইলেন, ‘কোথায় পাওয়া যাবে।’
‘…..বইতে। ….প্রকাশনী।’
‘তোমার ব্লগ-ওয়েবসাইট নেই?’
‘না।’
মোটামুটি এমনভাবে তাকালেন যেন এসব না থাকা সত্বেও নিজেকে লেখক দাবি করে খুব অন্যায় করছি। পরে ভদ্রলোক আরও ঘণ্টাখানেক থাকলেন। কিন্তু ওয়েবসাইট-ব্লগ না থাকার অযোগ্যতায় খুব প্রশ্রয় দিলেন না। হতাশ সেই সময়ে নাজিরের প্রবল উৎসাহের অর্ধসমাপ্ত ওয়েবসাইটের কথা মনে পড়ল। মনে হল, আর খুব দেরি করা ঠিক হবে না। এখনও অনাদর পাচ্ছি। ভবিষ্যতে হয়ত এই অক্ষমতায় প্রবেশাধিকারই পাব না।
সেটা ছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। খুব ঠেলাঠেলি করে বসতে হল। একটু ভদ্রতা করতে গিয়ে খাবার একটা ব্যাচ মিসও করলাম। তবু এই অস্বস্তির মধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেল, ঘুমন্ত ওয়েবসাইটটার ঘুম ভাঙ্গাতেই হবে। না হলে নিজেকে চলে যেতে হবে গভীর ঘুমে।
আমার পরিচয়ের একটা বিভ্রান্তি আছে। একটা লেখায় লিখেছিলামও যে আমার পিঠে একেকটা করে লেবেল লেপ্টে যায়। একটাকে ঘঁষে ওঠালে আরেকটা। ক্রীড়া সাংবাদিক হিসাবেই পরিচয়ের ব্যাপ্তির কারণে যে কেউ ধরে নেয়, আমার যেকোনো লেখাই খেলার বিষয়ের লেখা।
কিশোর উপন্যাস শুরুর পর ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি। একটা বইয়ের নাম দিলাম ‘বাবাবিরোধী কমিটি।’ শুনি বইমেলায় দাঁড়িয়ে দুই কিশোর আলাপ করছে, ‘বোধহয় বাবারা খেলত দেন না, এই জন্য বাবাদের বিরুদ্ধে কমিটি হয়েছে।’ খুবই সৃষ্টিশীল ভাবনা কিন্তু সেটা উপভোগ করতে পারলাম না। কিছুদিন পর সেই বিভ্রান্তি গেল। অল্পবিস্তর মানুষ কিশোরদের লেখক হিসাবে মানতে শুরু করলেন। এবং মনে হল, সেই মানাটাই চূড়ান্ত। এখন বড়দের লেখা লিখলেও সেটা কিশোর উপযোগী বলে গণ্য হয়। ‘ফ্রেন্ডস ক্লাব’ সিরিজটি বড়দের, তরুণদের। কিন্তু কিশোররা নিজেদের মনে করে নিতে শুরু করল। শেষে ‘দুই তরুণ এক তরুণী’র মতো বই দিয়ে বোঝাতে হল, আমি বড় হয়েছি। বড়দের লেখাও টুকটাক লিখছি। তাতে আবার বাচ্চারা রাগ করল। কিশোর লেখকদের বড়দের লেখা ওরা ঠিক সহ্য করতে পারে না। বড়রা আবার ছোটদের লেখকদের বড়দের লেখা লেখার বাড়াবাড়ি পছ্ন্দ করেন না। এই দুইয়ের ফাঁকে পড়ে ফাউ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। মাঝখানে আবার রাজনীতি-দেশ-সমাজের মতো ভারী বিষয়ে সম্পাদকীয় পাতায় কলাম লিখি। এই স্পর্ধা দেখে অনেকে নিশ্চয়ই চিবিয়ে খাওয়ার কথা ভাবেন। তবে তাদের কারো সঙ্গে এখনও দেখা হয়নি বলে দিব্যি বেঁচে বর্তে আছি। এখন আবার ওয়েবসাইট ফেঁদে বসছি।
এই ওয়েবসাইট বাণিজ্যিক কোনো আয়োজন নয়। এটা স্রেফ আমার লেখালেখি বা বইপত্রের সঙ্গে যোগাযোগের একটা সেতু। পুরনো সব লেখা থাকবে। সব বইয়ের খোঁজখবর থাকবে। কেউ তাতে আগ্রহী হলে সংগ্রহের সূত্রও মিলবে। মানে, ছড়ানো ছিটানো যা কিছু কাজ সেগুলো সব একসঙ্গে, যাতে সেই পরিচিত লোকের মতো আর নাক সিঁটকানো সহ্য করতে না হয়। সময়ের ফেরে অচল না হয়ে সচল থাকার সামান্য চেষ্টা। এর মধ্যেও নতুন একটা জিনিস আছে। বাচ্চাদের কাছে গল্পগুলো পৌঁছানোর জন্য অন্য রকমের একটা উদ্যোগ, যা তাদেরকে আগ্রহী করতে পারে এই জগতে। গল্পগুলো যিনি পড়ে শুনিয়েছেন তাঁর উপস্থাপনা এমন মুগ্ধ করা যে শুনতে শুনতে আমার মনে হয়েছে, আরে গল্পগুলো কি আমি লিখেছি, না উনি। এমনভাবে ধারণ করেছেন, এমনভাবে শোনাচ্ছেন যে তাঁর হৃদয় থেকেই চরিত্রগুলো বেরশ হচ্ছে । তাহসীনা ইয়াসমীনকে আন্তরিক ধন্যবাদ। নাজিরকে লিখে ধন্যবাদ দিলে আনুষ্ঠানিকতা হয়ে যাবে বলে বাদ দিচ্ছি। এই ভালোবাসাকে তুচ্ছ আনুষ্ঠানিকতার কালি মাখিয়ে নষ্ট করতে চাচ্ছি না।
অনেক বছর আগে এক ভাবুক বন্ধু বলছিল, ‘লেখালেখি আসলে এক ধরণের নির্লজ্জতা।’
‘নির্লজ্জতা?’
‘নিজের ভাবনাকে রং মেখে প্রকাশের চেষ্টা। আর কী!’
আরেকজনের কাছে শুনেছিলাম, লেখালেখি একটা বোকামী। এক্ষেত্রে যুক্তিটা হল, লিখলে সর্বোচ্চ চিন্তাটা প্রকাশ হয়ে যায়। মানুষ জেনে যায় তুমি আসলে কী!
নির্লজ্জতা বা বোকামী কি না জানি না। শুধু জানি, এ বড় ভালো লাগার জিনিস। লেখক মাত্রই নিজেকে নিংড়ে দেন আরেকজন মানুষকে মুগ্ধ করতে। সমৃদ্ধ করতে। লেখকের কলমে যে মায়া মিশে থাকে অচেনা মানুষের জন্য এর তুল্য ভালোবাসার ছবি বোধহয় আর কোথাও তৈরি হয় না।
এটা আমার সেই ভালোবাসা ভরপুর নিবেদন। সবাইকে mustafamamun.com এ স্বাগত।

Leave Comment

  1. Limon says:

    Via, thanx for this……..Grrttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttttt